ব্যাডমিন্টন খেলার নিয়ম

ব্যাডমিন্টন খেলার নিয়ম

ব্যাডমিন্টন খেলার নিয়ম

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ । কেমন আছেন সাবাই । আশা করি ভালো আছেন । আমিও আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি । আর ভালো অছি বলেই তো আপনাদের সামনে হাজির হলার নতুন একটি টপিক নিয়ে । আজকে আমি আপনাদের সাথে আলোচনা করবো ব্যাডমিন্টন খেলার নিয়ম নিয়ে  । আজকের পোষ্ট থেকে আরো জানতে পারবেন । ব্যাডমিন্টন খেলার উপকারিতারেকেট খেলার কোর্ট বানানোর নিয়ম সহ ব্যাডমিন্টর বিষয়ক বিস্তারিত ।

 

ব্যাডমিন্টন খেলার ইতিহাস

ব্যাডমিন্টন খেলার উৎপত্তি নিয়ে বহুমত থাকলেও অধিকাংশ মানুষের ধারণা  এ খেলার জন্ম হয়েছে ভারতের পুনেতে । সপ্তদশ শতাব্দীর প্রথম ভঅগে পুনেয় অবস্থিত ইংরেজ সৈন্যরা স্থানীয় লোকজনদেরকে শাটলকক ও ছোট ব্যাট দিয়ে খেলতে দেখে কৌতুহলবোধ করেন । তারা ছুটিতে ইংল্যান্ড যেয়ে খেলাটি প্রচলন করেন । স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে ঐ খেলা শিখে ভারতে কর্মরত ইংরেজ সৈন্যরা ছুটিতে গিয়ে ব্যাডমিন্টন নামক জায়গায় একত্র হয়ে খেলাটি শুরু করেন ।

সে থেকে সে জায়ঘার নাম অনুসারে ব্যাডমিন্টন খেলার নামকরণ হয় । পরবর্তীকালে দেশে দেশে এ খেলার প্রচলণের ফলে সকল শ্রেনীর মানুষের কাছে এ খেলা পরিচিত ভালো করে ।

 

ব্যাডমিন্টন খেলার কোর্ট এর মাপ 

কোর্টের মেঝে কাঠের হওয়া বাঞ্ঝনীয় । তবে তা কোনভাবেই পিচ্ছিল হতে পারবে না । শাটল সাদা রঙের তাই কোর্টের মেঝে গাঢ় রঙের হবে কিন্তু চকচকে হতে পারবে না । মেঝের রং সাদা ব্যতীত হালকা রঙের হলে কোর্টের দাগ হবে কালো রঙের , অন্যথায় এর রং হবে সাদা । ব্যাডমিন্টন খেলা সিঙ্গলস ও ডাবলসের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় ।

সিঙ্গেলস কোর্ট দৈর্ঘ্য ৪৪ ফুট এবং প্রস্থ ১৭ ফুট । ডাবলস কোর্ট দৈর্ঘ্য ৪৪ ফুট এবং প্রস্থ ২০ ফুট । কোর্টের দুটি পার্শ্বরেখায় দুই মধ্যবিন্দু বরাবর ব্যাডমিন্টন নেট টাঙ্গানোর জন্য দুটি খুটি বসবে । এই বিন্দু থেকে উভয় দিকে প্রন্তরেখার সমান্তরাল ৬ ফুট বাই ৬ ফুট দুরে লাইন টানতে হবে । একে শর্ট সার্ভিস লাইন বলে ।

আবর উভয় প্রন্তরেখা থেকে কোর্টের অভ্যান্তরে ২ ফুট বাই ৬ ফুট দূরে প্রান্তরেখার সমান্তরালে দুট লাইন টানতে হবে ।একে দ্বৈত খেলার জন্য লং সার্ভিস লাইন বলে । শর্ট সার্ভিস লাইন দ্বারা বিভিক্ত দু দিকের দুটি কোর্টের মাঝ বরাবর পার্শ্বরেখার সমান্তরালে দুটি লাইন টেনে রাইট সার্ভিস কোর্ট ও লেফট সার্ভিস কোর্ট নামে দুটি কোর্ট তৈরী করতে হয়ে । কোর্টের সকল মাকিং বা দাগ ৪ সেন্টিমিটার চওড়া হবে ।

ব্যাডমিন্টন খেলার নিয়ম ২০২২

ব্যাডমিন্টন খেলার সরঞ্জম সমূহ 

এখন আমরা জানবো ব্যাডমিন্টন খেলার জন্য কি কি সরঞ্জম লাগবে ।

১। পোষ্ট বা খুটিঃ খুটির উচ্চতা মেঝে থেকে ৫ থেকে  ১” হবে ।

২। নেটঃ  নেটের দৈর্ঘ্য ১৭ ফুট এবং প্রস্থ ২ ফুট ৬ ইঞ্চি হবে । মেঝে থেকে নেটের দু পোষ্টের দিকে উচ্চতা ৫ ফুট ১ ইঞ্চি এবং মাঝখানে মেঝে থেকে ৫ ফুট । নেটের উপরের ৩ ইঞ্চি চওড়া একটি সাদা ফিতা দিয়ে দুদিকে মুড়ে দিতে হবে ।এবং  এর মধ্যে দিয়ে শক্ত দড়ি বা তার চলে গিয়ে দু দিকের খুটির মাথায় যুুক্ত হবে ।

৩। র‌্যাকেটঃ ব্যাডমিন্টন র‌্যাকেটের হাতলের দৈর্ঘ্য ২৬ ইঞ্চি ।  র‌্যাকেটের মাথায় নেট থাকে  । নেটগুলা টানটান অবস্থায় থাকে ।

৪। শটল ককঃ হাঁসের পালক দ্বারা শটল কক তৈরী করা হয় । সকল পালক সুতা দ্বারা গাঁথা থাকে । পিছনের রেখার উপর তেকে একজন খেলোয়াড় যখন খুব জোরে উপরেরর দিকে র‌্যাকেট দিয়ে শাটল টাকে আঘাত করে এবং সেই শাটল কক যদি বিপক্ষ কোর্টের লং সার্ভিস লাইনের কাছাকাছি গিয়ে পড়ে তখনই এই শাটল কক মানসম্পন্ন ধরা হয় ।

 

ব্যাডমিন্টন খেলার নিয়ম

 

এখন আমরা আলোচনা করবো ব্যাডমিন্টন খেলার নিয়ম নিয়ে । ধারাবাহিক ভাবে আলোচনা করবো বিধায় লেখাটি বড় হতে পারে । আশা করি ধৈর্য্য সহকারে পড়বেন  ।

টসঃ

ব্যাডমিন্টন খেলার প্রথমে টস করে নিতে হয়  । যে দল বা খেলোয়াড়  টসে জয়লাভ করবে সে দল বা খেলোয়াড় সার্ভিস বা কোর্ট নেবে ।

পয়েন্টঃ

একক ও দ্বৈত খেলায়া ২১ পয়েন্টে গেম সম্পন্ন হয় । তবে ২ পয়েন্টের ব্যাবধান থাকতে হবে । যেমন ১৯ – ২১. ২০ – ২২ পয়েন্ট এই ভাবে । কিন্তু ৩০ পয়েন্টের উপরে যেতে পারবে না । যে আগে ৩০ পয়েন্ট পাবে সে বিজয়ী হবে । তৃতীয় সেটে ১১ পয়েন্ট হলে প্রান্ত বদল করতে হয় ।

সার্ভিসঃ

মহিলা ও পুরুষ এককের খেলায় যে দোষ করবে সে সার্ভিস হারাবে । পুরুষ ও মহিলা ডাবলসের খেলায় যে দল প্রথম সার্ভিস করবে সে দল প্রথমবার সেকেন্ড হ্যান্ড সার্ভিস পাবে না । দোষ করলে বিপক্ষ দল সার্ভিস পাবে । সার্ভিস কোনাকুনি কোর্টে করতে হয় ।

ব্যাডমিন্টন সার্ভিস ফন্ট কেন হয় ?

বেশকিছু কারনে সার্ভিস  ফন্ট হয় । নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো ।

  • শাটল কোনাকুনি কোর্টে না পড়লে
  • সার্ভিসের সময় কোর্ট থেকে যে কোন পা শূন্যে উঠে গেলে ।
  • শাটল কোর্টের বাইরে পড়লে
  • শাটলটি হাত থেকে ছেড়ে সার্ভিস না করলে
  • শাটলটি কোমরের ‍উপরে তুলে সার্ভিস করলে ।
  • শাটলটি যদি নেটে আটকে যায়
  • সার্ভিস করার সময় কোর্টের দাগ স্পর্শ করলে ।
  • সার্ভিসকারী ইচ্ছেকৃতভাবে বিপক্ষদলের খেলোয়াড়কে ধাক্কা দিলে ।

ব্যাডমিন্টন খেলায় লেট

খেলা চলাকালীণ খেলার সাথে সংশ্লিষ্ট নয় এমন কোন দৈব দুর্ঘটনার কারনে বাস্তবিক খেলা বন্ধ হলে আম্পায়ার লেট ঘোষনা করবেন ।  যেমন রিসিভার প্রস্তুত হওয়ার পূর্বেই সার্ভিস করলে কিংবা উভয় খেলোয়াড় একসঙ্গে আইন ভঙ্গ করলে ।

 

ব্যাডমিন্টনে ৫ টি বিষয়ে প্রতিযোগীতা অনুষ্টিত হয় ।

১ । পুরুষ একক

২। পুরুষ দ্বৈত

৩ । মহিলা একক

৪। মহিলা দ্বৈত

৫ । মিশ্র দ্বৈত

খেলা পরিচালনার জন্য একজন রেফারি একজন আম্পায়ার, একজন স্কেরার, ও দুই বা চারজন লাইন জাজ থাকবে ।

 

ব্যাডমিন্টন খেলার কলাকৌশলঃ

 

ব্যাডমিন্টন খেলার কলাকৌশল চার ভাগে ভাগ করা যায় ।

১। গ্রিপ, ২। ফুটওয়ার্ক ৩ । সার্ভিস, ৪ । স্ট্রোক ও স্ম্যাশিং

 

গ্রিপ বা রেকেট ধরার নিয়মঃ

রেকেট ব্যাবহারের প্রথম আবশ্যকীয় বিষয় হচ্ছে রেকেট ধরা । রেকেটে ধরার ক্ষেত্রে কব্জির ভুমিকা গুরুত্বপূর্ণ । ফোরহ্যান্ড ও ব্যাকহ্যান্ড শর্ট নেওয়ার সময় গ্রিপের তারতম্য হয়ে থাকে । এজন্য গ্রিপকে দুভাগে ভাগ করা হয়েছে ।

  • ফোরহ্যান্ড গ্রিপ
  • ব্যাকহ্যান্ড গ্রিপ

ব্যাডমিন্টন খেলার নিয়ম

ফোরহ্যান্ড গ্রিপঃ

একজন ডানহাতি খেলোয়াড় তার ডানদিক দিয়ে যে শটগুলা খেলে তা সবই ফোরহ্যান্ড গ্রিপের অন্তর্ভুক্ত । ডানহপাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তর্জনী দিয়ে রেকেটের গোড়া এমনভাবে ধরতে হবে যেন ইংরেজী V অক্ষরের মত দেখায় ।

ব্যাকহ্যান্ড গ্রিপ

ডানহাতি খেলোয়াড় তার শরীরের বামপাশে যে শটগুলা খেলে তা ব্যাকহ্যান্ড গ্রিপের অবস্থান থেকে হাতটি বাম দিকে এমনভাবে ঘুরতে হবে যেন হাতের বুড়ো  আঙ্গুল রেকেটের পিছনে আড়াআড়ি ও কোনাকুনি অবস্থানে থাকে । রেকেটের হাতলের শেষ অংশটুকু হাতের তালুর মধ্যে  থাকবে ।

ফুটওয়ার্ক বা পায়ের কাজ 

দ্রুত স্ট্রোক নেওয়ার জন্য চমৎকার ফুটওয়ার্ক প্রয়োজন । স্ট্রোকের প্রয়োজনে সামনে, পিছনে,পাশে পা ফেলে, লাফ দিয়ে কিংবা দৌড়ে গিয়ে খেলতে গেলে  ফুটওয়ার্ক ভালো হতে হয় । পিছনে এবং হাঁটু সামন্য ভেঙ্গে দাঁড়াতে হয় । শরীরের ওজন পায়ের পাতার উপর থাকে । দু পা ১ ৪ ইঞ্চি থেকে ১৮ ইঞ্চি দুরত্বে থাকবে ।  একে স্ট্যান্স বলে । এছাড়া এক পা পিভটিং করে এবং অন্য পা স্থির রেখেও ফুটওয়ার্ক করা হয় ।

ব্যাডমিন্টন খেলার নিয়ম ভিডিও

ব্যাডমিন্টন সার্ভিস 

 

একজন ভালো খেলোয়াড়কে তিন ধরনের সার্ভিসের কৌশল জানতে হয় ।

১। হাইডিপ সার্ভিস

২। লো সার্ভিস

৩। ড্রাইফ সার্ভিস

 

হাইডিপ সার্ভিস কি ?

যখন খুব উচু দিয়ে শাটল খাড়াভাবে বিপক্ষ কোর্টের লং সার্ভিস লাইনের কাছে ফেলা হয় তাকে হাইডিপ সার্ভিস বলা হয় ।  এর উচ্চতা অনেক সময় ২০ বা তারও বেশী হয়ে থাকে । একক খেলায় ফোরহ্যান্ড গ্রিপ ব্যাবহার করে এই সার্ভিস করা হয় ।

লো সার্ভিস ?

শটল যখন খুব নিচু দিয়ে বিপক্ষের সার্ভিস এলাকার শট সার্ভিস লাইন দ্বারা যুক্ত কোনায় ফেলা হয় তখন একে লো-সার্ভিস বলা হয় । রেকেটটি তখন ফোরহ্যান্ড গ্রিপে ধরা হয় ।

ড্রাইভ সার্ভিস

নিচু দিয়ে সাজোরে শাটলটি পিছনে বা সার্ভিস গ্রহনকারীর ডানদিক বরাবর সার্ভিস করলে অনেক সময় ভালো ফল দেও । সজোরে এই সার্ভিসটি করা হয় বলে  একে ড্রাইভ সার্ভিস বলে ।

স্ট্রোক ও স্ম্যশিংঃ

 

স্ট্রোক বা  আঘাত করার কৌশলকে ৬ ভাগে ভাগ করা হয় । এগুলা হলো

ফোরহ্যান্ড স্ট্রোক

ডানহাতি খেলোয়াড়ের বাম পা বা কাধ নেটের দিকে থাকবে এবং শরীরের ডান পাশ দিয়ে শাটলে আঘাত করতে হবে  ।রেকেট পিছনে নেওয়ার সময় ডান পায়ের উপর দেহের ভর থাকবে । শাটলে আঘাত করার সাথে সাথে শরীরের ওজন ডান পা থেকে বাম পায়ের উপর চলে আসবে ।

ব্যাকহ্যান্ড শটঃ

ডানহাতি খেলোয়াড়ের শরীরের বাম পাশ দিয়ে শাটল আঘাত করতে হবে । এজন্য ডান কাধ ও ডান পা নেটের দিকে থাকবে ।

ওভারহ্যান্ড শট 

প্রথমে বাম পা সামনে রেখে ডান পায়ের উপর শরীরের ওজন রাখতে হবে । শট নেওয়ার সময় শাটলের দিকে চোখ রেখে শরীর পিছনের দিকে একটু ঝুকে যাবে এবং মাথার উপর নিয়ে পিছন দিক দিয়ে রেকেট তুলে এনে শাটলে  আঘাত করতে হবে ।

 

ড্রপ শটঃ

এ শটের কৌশল হচ্ছে শাটল নেটের সামন্য উপর দিয়ে নেট পার হয়ে বিপক্ষ কোর্টে গিয়ে পড়বে ।

আন্ডারহ্যান্ড ড্রপ শটঃ

সার্ভিস করা সময় রেকেট সুইং করে শাটলে লাগার সাথে সাথে রেকেটের গতিেোধ করতে হবে ।

স্ম্যাশিংঃ

মাথার উপর শট নেওয়ার কৌশল রেকেট ধরা হাতটি পিছন থেকে সুইং করে উপরে উঠবে এবং যে মুহুর্তে রেকেট শাটল স্পর্শ করতে যাচ্ছে তখনই হাতের কব্জি নিচের দিকে করে সজোরে শঅটলে আঘাত করতে হবে । এর ফলে শাটলটি দ্রুত নিচের দিকে নেমে  যাবে এবং বিপক্ষের কোর্টে গিয়ে আছড়ে পড়বে  । খেলোয়াড় লাফিয় উঠেও স্ম্যাশ করতে পারে ।

শেষকথাঃ

ব্যাডমিন্টন খেলার নিয়ম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো । আশা করি সকলের ভালো লেগেছে । ব্যাডমিন্টন খেলার নিয়ম নিয়ে বিস্তারিত  এই লেখাটি আমি নবম দশম শ্রেনীর শারীরিক শিক্ষা বই থেকে লিখেছি । আজকে আর কথা বাড়াচ্ছি না । বিদায় নিচ্ছি এখনি । সামনে দেখা হবে ভিন্ন কোন বিষয় নিয়ে  ।ততদিন পর্যন্ত ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন স্পোর্টস আওয়ার এর সাথে থাকুন ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *