ক্রিকেট টুর্নামেন্ট নিয়মাবলী বিস্তারিত জানুন

ক্রিকেট টুর্নামেন্ট নিয়মাবলী

ক্রিকেট টুর্নামেন্ট নিয়মাবলী

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ । প্রিয় ভিজিটর আশা করি ভালো  আছেন । আমিও আলহামুদল্লিাহ ভালো আছি । আজকে আমি আপনাদের সাথে আলোচনা করবো  ক্রিকেট টুর্নামেন্ট নিয়মাবলী নিয়ে । এছাড়াও আজকের পোষ্ট থেকে আপনারা জানতে পারবেন , ক্রিকেট খেলার ইতিহাস, ক্রিকেট খেলায় নো বলের নিয়ম, আম্পায়ার করার নিয়ম, সহ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট নিয়মাবলী নিয়ে যত কথা আছে সব কথা আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ । তো কথা না বাড়িয়ে চলুন শুরু করি মূল আলোচনা  ।

Table of Contents

ক্রিকেট খেলার ইতিহাসঃ

ক্রিকেট খোর ইতিহাস নিয় যতটুকু জানা যায় , তাতে এই খেলা প্রথম শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে । ১৬ শতকের শেষদিকে দক্ষিন – পূর্ব ইংল্যান্ডে শুরু হলেও অষ্টদম শতাব্দিতে এই ক্রিকেট খেলা ইংল্যান্ডের জাতীয় খেলায় পরিণত হয় । এরপরেই ক্রিকেট সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পরে এবং বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলায় পরিণত হয় ।

ক্রিকেট টুর্নামেন্ট নিয়মাবলী

এখন আমরা জানবো একটি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট কিভাবে খেলতে হয় । ক্রিকেট টুর্নামেন্ট নিয়মাবলী জানা না থাকলে আপনি ক্রিকেট খেলায় পারদর্শী হতে পারবেন না । আপনি যদি একজন বিশ্বসেরা ক্রিকেট খেলোয়ার হতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে ক্রিকেট খেলার নিয়ম কানুন সমন্ধে যথেষ্ট ধারনা থাকতে হবে ।

ক্রিকেট মাঠের মাপ

আপনাকে প্রথমে জানতে হবে ক্রিকেট মাঠের মাপ কত কত হয় । তো চলুন জানি একটি ক্রিকেট মাঠের মাপ কেমন হবে।

 

ক্রিকেট মাঠের মাপ

পিচঃ

পিচ হলো ক্রিকেট মাঠের প্রধান অংশ । পুরো পিচ লম্বায় ৭৪ ফুট ও আর প্রস্থ ১২ ফুট

মুল পিচ

মুল পিচের মাপ স্ট্যাম্প টু স্ট্যাম্প  হলো লম্বায় ২২ গজ ( ৬৬ ফুট )  আর প্রস্থ ৩.৩৩৩ গজ  ( ১০ ফুট )

বোলিং ক্রিজের মাপ

দুই বোলিং ক্রিজের মাঝের দুরুত্ব ৫৮ ফুট । পিচের মাথা থেকে ৪ ফুট সামনে স্টাম্প পর্যন্ত দাগ দেয়া ক্রিজই বোলিং ক্রিজ ।

পপিং ক্রিজ

পপিং ক্রিজ হলো , ব্যাটিং করার ক্রিজ কে পপিং ক্রিজ বলে

রির্টান ক্রিজঃ

ক্রিকেট মাঠে চারটি রিটার্ন ক্রিজ থাকে । বোলিং ক্রিজের সাথে লম্বালম্বী থাকে । বলার রিটার্ন ক্রিজে পা ফেললে বোলারের বল “নো বল” ধরা হয় ।

ক্লোজ ইনফিল্ড

ক্লোজ ইনফিল্ড হলো স্টাইক ব্যাটসম্যান থেকে ১৫ গজ দুরুত্বের সিমানা কে ক্লোজ ইনফিল্ড বলে ।

ইনফিল্ডঃ 

৩০ গজ  দুরত্বে যে বৃত্ত আকাঁ  থাকে মাঠে সেটুকু অঞ্চলকে ইনফিল্ড বলে।

আউটফিল্ডঃ

৩০ গজের বাহিরে যা থাকে সেটাকে আউডফিল্ড বলে ।

বাউন্ডারিঃ

বাউন্ডারির মাপ হিসেব করতে হয় পিচের কেন্দ্র থেকে । কেন্দ্র থেকে সর্বচ্চ ৯০ গজ সর্বনিন্ম ৬৫ গজের ভিতর বাউন্ডারি দিতে হয় ।

ক্রিকেট খেলার মাঠঃ

৬০০০০ হাজার বর্গফুট ক্ষেত্রফলের মাঠ হলে সেই মাঠে আইসিসি ক্রিকেট খেলার জন্য স্বীকৃতি দেয় ।

ক্রিকেট খেলার নিয়মঃ

 

খেলোয়ারঃ

ক্রিকেট খেলার জন্য ১৪ জনের একটি দল গঠন করতে হয় । একজন অধিনায়ক প্রতিটি দলে ১১ জন খেলোয়ার কে নিয়ে খেলা শুরু করে ।

খেলোয়ার পরিবর্তনঃ

অনেক সময় রানিং খেলোয়ার খেলতে খেলতে অসুস্থ বা অহত হয়ে যায় । তখন চাইলেই আম্পায়ারের অনুমতি সাপেক্ষে অন্য খেলোয়ার কে মাঠে খেলানো যাবে । তবে পরিবর্তন করা খেলোয়ার শুধু ফিল্ডিং করতে পারনে । ব্যাটিং , বলিং  , উইকেট কিপিং  করানো যাবে না ।

 

আম্পায়ারঃ

ক্রিকেট মাঠে আম্পায়ারের সিধান্তই চুড়ান্ত সিধান্ত । একটি খেলা পরিচালনার জন্য দুইজন আম্পায়ার একজন রিজার্ভ আম্পায়ার ও একজন টিভি আম্পায়ার থাকে ।

 

ক্রিকেট বলঃ

বেলের ওজন ১৬৩ গ্রাম এর বেশী হবে না আবার ১৫৫.৯ এর কম হবে । খেলার পুরো সময় বল আম্পায়ারের নিয়ন্ত্রনে থাকবে ।

ক্রিকেট ব্যাটের ওজনঃ

ক্রিকেট ব্যাটের ওজনের কোন সিমাবদ্বতা নাই । ব্যাট ৩৮ ইঞ্জি লম্বা ও ৪ ইঞ্জি চওড়া হয় । ক্রিকেট ব্যাট সময় সময় কাঠের  তৈরী হয়  ।

পড়ুন –

বিশ্বসেরা ১০ জন ফুটবলারের পরিচিতি

হকি খেলার নিয়ম

ছোটবেলার খেলাধুলা

ইনিংসঃ

ক্রিকেট খেলায় এক পক্ষের ব্যাট করার পালা কে ইনিংস বলে । ১ দিনের খেলায় প্রতি দল একটি করে ইনিংস খেলে।  আর টেষ্ট ক্রিকেটে ২ টি করে  ইনিংস অনুষ্টিত হয় ।  টস করার মাধ্যমে ইনিংস নিধারন করা হয় ।

ডিক্লারেশনঃ সিমিতো অভারের ম্যাচ ব্যাতিতো টেষ্ট ক্রিকেট বা যেকোন দিনের ইনিংস চলা কালে ব্যাটিং দলের অধিনায়ক চাইলেই ইনিংস শেষ করতে পারে ।

 

ফলাে অন

পাঁচ দিনের খেলায় যে দল প্রথমে ব্যাট করে ২০০ রানে, তিন বা চার দিনের খেলায় ১৫০ রানে, দুই দিনের খেলায় ১০০ রানে এবং ১ দিনের খেলায় ৭৫ রানে এগিয়ে থাকলে প্রতিপক্ষ দলকে।ফলাে-অন করাতে পারবে।

 

খেলা শুরু 

খেলা শুরু করার জন্য বোলিং প্রান্তের আম্পায়ার পে ডেকে খেলা শুরু করবে ।

খেলার বিরতিঃ

 

চা বিরতি ২০ মিনিট পনি পান করার বিরতি ৫ মিনিট এবং  ‍দুই ইনিংস এর মাঝে বিরতি ১০ মিনিট ।

পড়ছেন ক্রিকেট টুর্নামেন্ট নিয়মাবলী

স্কোরঃ

রান হিসেব করে স্কোর হিসাব করা হয় ।

লস্ট বল

বল হারিয়ে গেলে  যে কোনাে ফিল্ডম্যান ”লস্ট বল’ ডাকতে পারেন। “লস্ট বল’ ডাকা হলে স্কোরে ৬ রান যােগ হবে। কিন্তু লস্ট বল ডাকার আগে যদি ৬ রানের বেশি রান নেওয়া হয়ে থাকে তবে সবকটি রান স্কোরে যােগ করা হবে।

 

ওভারঃ

ক্রিকেট টুর্নামেন্টে ৬ টি বলে এক অভার ধরা হয়ে

ডেট বল

বলটি কোনাে ব্যাটসম্যান বা আম্পায়ারের পােশাকের মধ্যে আটকে গেলে বলটি ডেড বলে গণ্য হবে।

নো বল ক্রিকেটঃ

কোন বলারের বল ডেলিভারিতে বৈধাতা নিয়ে আম্পায়ার সন্ধেহ হলে সেই বল নো বল হিসেবে আম্পায়ার ঘোষনা করতে পারে ।

ওয়াইড বলঃ

বল যদি বেশী হাই দিয়ে যায় । এবং ব্যাটসমানের নাগালের বাহির দিয়ে যায় তাহলে সেটা ওয়াইড বল । ওয়াইড বল হলে একটি রান যোগ হবে ব্যাটিং দলে ।

বাই এবং লেগবাই রানঃ

বাই হলো বল যখন ব্যটসম্যাপ কে স্পর্শ ছাড়া দুরে চলে যায় এই সুযগে ব্যাটসম্যান যদি কোন রান নেয় তাহলে সেটা বাই রান । আর লেগবাই হলো বল যদি ব্যটসম্যানের কোথাও লেগে দুরে চলে যায় তখন সেই সুযোগে যে রান নেওয়া হয় সেটা লেগবাই রান বলে ।

আপিলঃ

ব্যাটিং এবং বোলিং দল যে কোন সিধান্ত তাদের মনঃপুত না হলে আম্বায়ারের কাছে আপলি করতে পারে। আপিল না করলে আম্বায়ার কোন ব্যাটসম্যান কে আউট দেয় না ।

বোল্ড আউডঃ

বলারের বৈধ্য কোন বল স্ট্যাম্পে গিয়ে স্পর্শ করলে ব্যাটসম্যান বোল্ড আউড হয়ে যায় ।

টাইম আউটঃ

একজন ব্যাটসম্যান আউট হবার অন্য ব্যাটসম্যান যদি তিন মিনিটের ভিতর ব্যাটিং এর জন্য না নামতে পারে তাহলে সে টাইম আউট হবে ।

ক্যাচ আউটঃ

ব্যাটসম্যানের ব্যটের সাথে বল লেগে সেই বল মাটিতে না পরে সরাসি যদি কোন ফিল্ডিং ম্যান ধরে ফেলে তবে সেই ব্যাটসম্যান ক্যাচ আউট হবে ।

হিট উইকেট

নাে বল ছাড়া ব্যাটসম্যান খেলতে গিয়ে তার ব্যাট বা দেহের কোন অংশ দিয়ে উইকেট
ভেঙ্গে গেলে আম্পায়ার হিট উইকেট আউট হবে।

রান আউটঃ

রান নিতে গিয়ে কোন ব্যাটসম্যান আউট হলে তাকে  রান আউট হিসেবে গন্য করা হয় ।

 

স্ট্যাম্পড আউট

নাে বল ছাড়া  ব্যাটসম্যান বল খেলতে গিয়ে যদি পপিং ক্রিজ থেকে বেরিয়ে যায় ।এই সময়  বিপক্ষ দলের উইকেট রক্ষক নিয়মমত  ভাবে উইকেট ভেঙ্গে দেয় তখন ফিল্ডিং দলের আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে আম্পায়ার স্ট্যাম্পড আউট দিবেন।

উইকেট কিপারঃ

উইকেট কিপার হলো ফিল্ডিং দলের হিরো । সে ব্যাটসম্যান কে পাছ করা সকল বল ধরে ফেলার চেষ্টা করবে ।

 ফিল্ডসম্যান

ফিল্ডিং ম্যান তার  দেহের যে কোন অংশ দিয়ে বল থামাতে পারবেন ।  কিন্তু  ফিন্ডারদের ব্যবহৃত যেকোন বস্তুতে বল লাগলে ব্যাটিং দল ফিল্ডিং দ্যা বলের জন্য ৫ রান পাবেন।

এলবিডব্লিউ

বল যখন ব্যাটসম্যানের ব্যাটের সাথে না লেগে । ব্যাটসম্যানের হাত বা পায়ের দ্বারা বল থেমে যায় তখন যদি আম্পায়ার মনে করে যদি বল হাত পা দ্বারা না থামতো তাহেলে বল স্ট্যাম্পে গিয়ে আঘাত করবে এবং ব্যাটসম্যান আউট হবে । তাহলে তখন এলবিডব্লিউ আউট দিয়ে দেয় ।

ফলাফলঃ

 

যে দল রান বেশী করবে সেই দলই ভালো ফলাফল তথা বিজয়ী হবে ।

শেষকথাঃ

ক্রিকেট টুর্নামেন্ট নিয়মাবলী নিয়ে  এতক্ষন অনেক আলোচনা করা হলো । আশা করি আজকের অলোচনা থেকে আপনি একটু হলেও উপকিৃত হয়েছেন । আর আপনার যখন উপকৃত হবেন তখনি আমার এই শ্রম সার্থক হবে । খেলাধুলা রিলেটেড সব ধরনের তথ্য শেয়ার করার জন্যই তৈরী করা হয়েছে আমাদের এই ওয়েব সাইট । আপনি খেলাধুলা বিষয়ক যেকোন তথ্য জানতে আমাদের কে কমেন্ট করে জানাতে পারেন । আজকের লেখা এখানেই শেষ করছি । ভালো থাকবেন সুস্থ থাকুন sportshoure.com এর সাথে থাকুন ধন্যবাদ ।

 

 

Tag: ক্রিকেট টুর্নামেন্ট নিয়মাবলী ক্রিকেট টুর্নামেন্ট নিয়মাবলী ক্রিকেট টুর্নামেন্ট নিয়মাবলী ক্রিকেট টুর্নামেন্ট নিয়মাবলী ক্রিকেট টুর্নামেন্ট নিয়মাবলী ক্রিকেট টুর্নামেন্ট নিয়মাবলী ক্রিকেট টুর্নামেন্ট নিয়মাবলী ক্রিকেট টুর্নামেন্ট নিয়মাবলী